শিশু ভোলানাথ

নইলে আমি যেতেম নিজে,

আমার পারের থেকে আমি

          যেতেম তোমার পার।

মায়ের পারে অবুর পারে

থাকত তফাত, কেউ তো কারে

ধরতে গিয়ে পেত নাকো,

          রইত না একসাথে।

দিনের বেলায় ঘুরে ঘুরে

দেখা - দেখি দূরে দূরে —

সন্ধেবেলায় মিলে যেত

          অবুতে আর মাতে।

 

কিন্তু হঠাৎ কোনোদিনে

          যদি বিপিন মাঝি

পার করতে তোমার পারে

          নাই হত মা রাজি।

ঘরে তোমার প্রদীপ জ্বেলে

ছাতের ’পরে মাদুর মেলে

বসতে তুমি, পায়ের কাছে

          বসত ক্ষান্তবুড়ি,

উঠত তারা সাত ভায়েতে,

ডাকত শেয়াল ধানের খেতে,

উড়ো ছায়ার মতো বাদুড়

          কোথায় যেত উড়ি।

তখন কি মা, দেরি দেখে

ভয় হত না থেকে থেকে

পার হয়ে মা, আসতে হতই

          অবু যেথায় আছে।

তখন কি আর ছাড়া পেতে?

দিতেম কি আর ফিরে যেতে?

ধরা পড়ত মায়ের ওপার

          অবুর পারের কাছে।