ব্যক্তিপ্রসঙ্গ

দেবতার দীপ হস্তে যে আসিল ভবে

সেই রুদ্রদূতে, বলো, কোন্ রাজা কবে

পারে শাস্তি দিতে! বন্ধনশৃঙ্খল তার

চরণবন্দনা করি করে নমস্কার —

কারাগার করে অভ্যথর্না। রুষ্ট রাহু

বিধাতার সূর্য-পানে বাড়াইয়া বাহু

আপনি বিলুপ্ত হয় মুহূর্তেক-পরে

ছায়ার মতন! শাস্তি! শাস্তি তারি তরে

যে পারে না শাস্তিভয়ে হইতে বাহির

লঙ্ঘিয়া নিজের গড়া মিথ্যার প্রাচীর —

কপট বেষ্টন, যে নপুংস কোনদিন

চাহিয়া ধর্মের পানে নির্ভীক স্বাধীন

অন্যায়েরে বলে নি অন্যায়, আপনার

মনুষ্যত্ব বিধিদত্ত নিত্য-অধিকার

যে নির্লজ্জ ভয়ে লোভে করে অস্বীকার

সভামাঝে, দুর্গতির করে অহংকার,

দেশের দুর্দশা লয়ে যার ব্যবসায়,

অন্ন যার অকল্যাণ মাতৃরক্ত-প্ৰায়—

সেই ভীরু নতশির চিরশাস্তিভারে

রাজকারা-বাহিরেতে নিত্যকারাগারে॥

 

বধ্নন-পীড়ন-দুঃখ-অসস্মান-মাঝে

হেরিয়া তোমার মূর্তি কর্ণে মোর বাজে

আত্মার বন্ধনহীন আনন্দের গান —

মহাতীর্থযাত্রীর সংগীত, চিরপ্রাণ

আশার উল্লাস, গম্ভীর নির্ভয় বাণী

উদার মৃত্যুর। ভারতের বীণাপাণি,

হে কবি, তোমার মুখে রাখি দৃষ্টি তাঁর

তারে তারে দিয়েছেন বিপুল ঝংকার —

নাহি তাহে দুঃখতান, নাহি ক্ষুদ্র লাজ,

নাহি দৈন্য, নাহি ত্রাস। তাই শুনি আজ

কোথা হতে ঝঞ্ঝা-সাথে সিন্ধুর গর্জন,

অন্ধবেগে নির্ঝরের উন্মত্ত নর্তন