কাহিনী

বুকের বাহিরে বাহিরি আসে।

ওগো বনভূমি, মোরে ঢাকো তুমি

নবনির্মল শ্যামল বাসে।

অয়ি উজ্জ্বল উদার আকাশ,

লজ্জিত জনে করুণা ক'রে

তোমার সহজ অমলতাখানি

শতপাকে ঘেরি পরাও মোরে।


স্থান আমাদের রুদ্ধ নিলয়ে

প্রদীপের-পীত-আলোক-জ্বালা,

যেথায় ব্যাকুল বদ্ধ বাতাস

ফেলে নিশ্বাস হুতাশ-ঢালা।

রতননিকরে কিরণ ঠিকরে,

মুকুতা ঝলকে অলকপাশে,

মদিরশীকরসিক্ত আকাশ

ঘন হয়ে যেন ঘেরিয়া আসে।

মোরা গাঁথা মালা প্রমোদ-রাতের —

গেলে প্রভাতের পুষ্পবনে

লাজে ম্লান হয়ে মরে ঝরে যাই,

মিশাবারে চাই মাটির সনে।

তবু, তবু ওগো কুসুমভগিনী,

এবার বুঝিতে পেরেছি মনে

ছিল ঢাকা সেই বনের গন্ধ

অগোচরে কোন্‌ প্রাণের কোণে।

 

সেদিন নদীর নিকষে অরুণ

আঁকিল প্রথম সোনার লেখা ;

স্নানের লাগিয়া তরুণ তাপস

নদীতীরে ধীরে দিলেন দেখা।

পিঙ্গল জটা ঝলিছে ললাটে

পূর্ব-অচলে উষার মতো,

তনু দেহখানি জ্যোতির লতিকা

জড়িত স্নিগ্ধ তড়িৎ-শত।