কল্পনা

আকাশ করেছ সুনীল অমল,

     স্নিগ্ধশীতল ধরণী।

 

বহিছে প্রথম শিশিরসমীর

     ক্লান্ত শরীর জুড়ায়ে—

কুটিরে কুটিরে নব নব আশা

     নবীন জীবন উড়ায়ে।

দিকে দিকে মাতা কত আয়োজন,

হাসিভরা মুখ তব পরিজন

ভাণ্ডারে তব সুখ নব নব

     মুঠা মুঠা লয় কুড়ায়ে।

ছুটেছে সমীর আঁচলে তাহার

     নবীন জীবন উড়ায়ে।

 

আয় আয় আয়, আছ যে যেথায়

     আয় তোরা সব ছুটিয়া—

ভান্ডারদ্বার খুলেছে জননী,

     অন্ন যেতেছে লুটিয়া।

ও পার হইতে আয় খেয়া দিয়ে,

ও পাড়া হইতে আয় মায়ে ঝিয়ে,

কে কাঁদে ক্ষুধায় জননী শুধায়—

     আয় তোরা সবে জুটিয়া।

ভাণ্ডারদ্বার খুলেছে জননী,

     অন্ন যেতেছে লুটিয়া।

 

মাতার কণ্ঠে শেফালিমাল্য

     গন্ধে ভরিছে অবনী।

জলহারা মেঘ আঁচলে খচিত

     শুভ্র যেন সে নবনী।

পরেছে কিরীট কনককিরণে,

মধুর মহিমা হরিতে হিরণে

কুসুমভূষণজড়িত চরণে

     দাঁড়ায়েছে মোর জননী।

আলোকে শিশিরে কুসুমে ধান্যে

      হাসিছে নিখিল অবনী।