সোনার তরী

         অঙ্কে তুলিয়া হাসিবে।

ঊর্মিলীলায় সূর্যকিরণ

ঠিকরি উঠিবে হিরণবরন,

বিঘ্ন বিপদ দুঃখ মরণ

         ফেনের মতন ভাসিবে।

 

ওগো   কে বাজায়, বুঝি শোনা যায়,

         মহা রহস্যে রসিয়া,

চিরকাল ধরে গম্ভীর স্বরে

        অম্বর- ' পরে বসিয়া।

গ্রহমণ্ডল হয়েছে পাগল,

ফিরিছে নাচিয়া চিরচঞ্চল —

গগনে গগনে জ্যোতি-অঞ্চল

         পড়িছে খসিয়া খসিয়া।

 

ওগো কে বাজায়   কে শুনিতে পায়,

না জানি কী মহা রাগিণী!

    দুলিয়া ফুলিয়া নাচিছে সিন্ধু

         সহস্রশির নাগিনী।

ঘন অরণ্য আনন্দে দুলে —

অনন্ত নভে শত বাহু তুলে,

কী গাহিতে গিয়ে কথা যায় ভুলে,

         মর্মরে দিনযামিনী।

 

নির্ঝর ঝরে উচ্ছ্বাসভরে

         বন্ধুর শিলা-সরণে।

ছন্দে ছন্দে সুন্দর গতি

         পাষাণহৃদয়-হরণে।

কোমল কণ্ঠে কুল্‌ কুল্‌ সুর

ফুটে অবিরল তরল মধুর,

সদাশিঞ্জিত মানিকনূপুর

         বাঁধা চঞ্চল চরণে।