পুনশ্চ

প্রভাত যেন হাসি-অশ্রুর গলিতমিলিত গীতধারায় সমুচ্ছল।

নিকটে তালীকুঞ্জতলে একটি পর্ণকুটির

অনির্বচনীয় স্তব্ধতায় পরিবেষ্টিত।

দ্বারে অপরিচিত সিন্ধুতীরের কবি গান গেয়ে বলছে —

মাতা, দ্বার খোলো।

১০

প্রভাতের একটি রবিরশ্মি রুদ্ধদ্বারের নিম্নপ্রান্তে তির্যক্‌ হয়ে পড়েছে।

সম্মিলিত জনসংঘ আপন নাড়ীতে নাড়ীতে যেন শুনতে পেলে

সৃষ্টির সেই প্রথম পরমবাণী — মাতা, দ্বার খোলো।

দ্বার খুলে গেল।

মা বসে আছেন তৃণশয্যায়, কোলে তাঁর শিশু,

উষার কোলে যেন শুকতারা।

দ্বারপ্রান্তে প্রতীক্ষাপরায়ণ সূর্যরশ্মি শিশুর মাথায় এসে পড়ল।

কবি দিলে আপন বীণার তারে ঝংকার, গান উঠল আকাশে —

জয় হোক মানুষের, ওই নবজাতকের, ওই চিরজীবিতের।

সকলে জানু পেতে বসল, রাজা এবং ভিক্ষু, সাধু এবং পাপী, জ্ঞানী এবং মূঢ়;

উচ্চস্বরে ঘোষণা করলে — জয় হোক মানুষের,

ওই নবজাতকের, ওই চিরজীবিতের।